Loading...
Loading...

৯০-এর দশক।
এই একটা শব্দ শুনলেই আপনার মনে কী ভেসে ওঠে? বিটিভির রূপকথা, আলিফ লায়লা, ম্যাকগাইভার? আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, আর হাসানের সেই অমোঘ গিটার সোলো? 'কোথাও কেউ নেই'-এর বাকের ভাইয়ের জন্য রাস্তায় নেমে পড়া মিছিল? নাকি সেই অদ্ভুত সুন্দর সন্ধ্যাগুলো, যখন লোডশেডিং হলে সবাই বাসার বাইরে এসে একে অপরের সাথে গল্পে মেতে উঠতো?
সেই সময়ের ক্যাসেট ফিতায় শোনা গানের এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া আছে, আছে ইয়ন বা একলেয়ার্স চকলেটের স্বাদের স্মৃতি। সেই সময়টা ছিল অদ্ভুত সহজ, অদ্ভুত আন্তরিক।
কিন্তু... এই সহজ-সরল আন্তরিকতার আড়ালেই কি লুকিয়ে ছিল অন্য কোনো গল্প?
এই এপিসোডে সাব্বির আহমেদ এবং তানজিন নাহিদা ঠিক সেই নস্টালজিয়ার আড়ালের গল্পটা বলতেই বসেছেন। তারা ডুব দিয়েছেন সেই সময়ের শৈশবের না-বলা কথাগুলোতে, যে কথাগুলো আমরা হয়তো বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত বুঝতেই পারিনি।
এটা সেই সময়ের গল্প, যখন সমাজ আর পরিবার আমাদের সবার জন্য একটা অলিখিত "প্রেসক্রিপশন" ঠিক করে রেখেছিল।
প্রেসক্রিপশন এক: সৌন্দর্যের সংজ্ঞা।মেয়ের গায়ের রং "উজ্জ্বল" হতেই হবে। "শ্যামলা" হলেই যেন বাবা-মায়ের চিন্তার শেষ নেই। আত্মীয়-স্বজনদের কটু কথা, "ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী" মাখার অলিখিত প্রতিযোগিতা, আর "রোদে যাস না, কালো হয়ে যাবি"—এই কথাগুলো শুনতে শুনতেই বড় হওয়া একটা প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসের ভিত কীভাবে নড়ে গিয়েছিল, সেই আলোচনা আছে এখানে।
প্রেসক্রিপশন দুই: "শাসন"-এর নামে ট্রমা।আমরা সেই প্রজন্ম, যারা স্কুলের স্যারদের দেখলে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতাম। "শাসন" মানেই ছিল বেতের ভয়। অংক না পারলে বা হাতের লেখা সুন্দর না হলে যে অমানবিক মার খেতে হতো, সেটাকে সবাই "নরমাল" বলেই মেনে নিয়েছিল। বাসায় এসে নালিশ করলে উল্টো শুনতে হতো, "স্যার মেরেছেন? নিশ্চয়ই তুমি অন্যায় করেছো।" এই এপিসোডে আছে সেই ভয়ের স্মৃতি, যা আমাদের ভেতর থেকে প্রশ্ন করার ক্ষমতাটাই হয়তো কেড়ে নিয়েছিল।
প্রেসক্রিপশন তিন: ক্যারিয়ারের "হলি ট্রিনিটি"।ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার অথবা বিসিএস ক্যাডার। আমাদের সামনে অপশন ছিল এই তিনটিই। কেউ যদি ভুলেও বলতো সে ব্যবসা করতে চায়, আঁকতে চায় বা মিউজিশিয়ান হতে চায়, তাকে "অবাস্তব" বা "ফ্যামিলির বোঝা" বলে থামিয়ে দেওয়া হতো। সরকারি চাকরির প্রতি সেই অন্ধ মোহ, আর তার আড়ালে "বাড়তি আয়"-এর যে সামাজিক স্বীকৃতি ছিল—সেই অদ্ভুত হিপোক্রেসির ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে এই আলাপে।
প্রেসক্রিপশন চার: স্বাস্থ্যের অদ্ভুত ধারণা।৯০-এর দশকে "স্বাস্থ্য" মানেই ছিল "মোটা-সোটা"। বাচ্চা শুকনা হলেই মায়েদের দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না। জোর করে প্লেটের পর প্লেট ভাত খাওয়ানো, প্রোটিন বা পুষ্টি নিয়ে কোনো ধারণা না থাকা, আর বিকেলে তেলে ভাজা অস্বাস্থ্যকর নাস্তাকেই "আদর" বলে ধরে নেওয়া—এই খাদ্যাভ্যাস আমাদের কী ক্ষতি করেছে?
প্রেসক্রিপশন পাঁচ: সামাজিকতার নামে বিচ্ছিন্নতা।"বাইরে যাস না, নষ্ট হয়ে যাবি।" "ওই ছেলেটার সাথে মিশবি না।"—এই কথাগুলো শুনতে শুনতে একটা প্রজন্ম বড় হয়েছে বন্ধুহীনভাবে। সামাজিকভাবে কীভাবে মিশতে হয়, কথা বলতে হয়, সেই শিক্ষা পাওয়ার আগেই তাদের এক ধরনের খাঁচায় বন্দী করে ফেলা হয়েছিল।
এই সবকিছুই করা হয়েছিল "ভালোবাসার" নামে। আমাদের বাবা-মায়েরা তাদের সাধ্যমতো সেরাটাই দিয়েছেন, কিন্তু তাদের সেই প্যারেন্টিং-এর দর্শনটাই ছিল ভয় আর চাপের ওপর নির্ভরশীল।
সবচেয়ে বড় কথা, এই এপিসোডটি কেবল অভিযোগের নয়, উপলব্ধির।
সাব্বির আর তানজিন আলোচনা করেছেন, কীভাবে তারা নিজেরা বাবা-মা হওয়ার পর শৈশবের সেই "নরমাল" ঘটনাগুলোকে "ট্রমা" হিসেবে চিনতে শিখলেন। আমরাই সেই "ব্রিজ জেনারেশন", যারা একদিকে সেই ভয় বয়ে বেড়াচ্ছি, আবার অন্যদিকে প্রতিজ্ঞা করেছি আমাদের সন্তানদের সেই ভয়ের চক্রে ফেলবো না।
কেন আমরা এখন "জেন্টল প্যারেন্টিং" নিয়ে কথা বলি? কেন আমরা সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এতোটা সচেতন?
৯০-এর দশকের সেই আলো-আঁধারির শৈশব, সেই নস্টালজিয়ার ব্যবচ্ছেদ, আর এক নতুন প্রজন্মের বাবা-মা হয়ে ওঠার জার্নি—এই নিয়েই আমাদের আজকের গভীর, ব্যক্তিগত এবং খোলামেলা কথোপকথন।
No transcript yet
This episode has not been transcribed. Request it and it moves to the front of the queue.
More episodes
The Growth Curve